সূরা ফালাকের গুরুত্ব
সূরা ফালাক কুরআনের ১১৩তম সূরা, যা মক্কায় অবতীর্ণ হয়েছে এবং এতে ৫টি আয়াত রয়েছে। এটি সূরা নাসের সঙ্গে মিল রেখে "মুয়াওয়্বিযাতাইন" (দুই আশ্রয়প্রার্থনামূলক সূরা) নামে পরিচিত। এই সূরাটি মুসলমানদের জন্য একটি বিশেষ রক্ষাকবচ, যা সকল প্রকার অনিষ্ট ও বিপদ থেকে সুরক্ষা দেয়।
১. আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা
সূরা ফালাকে আল্লাহর কাছে সকাল, রাত, অন্ধকার, জাদু ও হিংসুকের অনিষ্টতা থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য দোয়া করা হয়েছে। এটি মানুষের জন্য এক গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা কবচ।
২. অশুভ শক্তি থেকে মুক্তি
এই সূরায় কালো জাদু, বদনজর, এবং হিংসার প্রভাব থেকে বাঁচার জন্য আল্লাহর শরণাপন্ন হওয়ার শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। এটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনে নিরাপত্তা ও মানসিক শান্তি এনে দেয়।
৩. নবী (সা.)-এর সুন্নত আমল
হাদিসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) প্রতিদিন সকাল ও রাতে সূরা ফালাক ও সূরা নাস পাঠ করতেন এবং এটি নিজেকে রক্ষা করার জন্য সুন্নত আমল হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। (সহিহ মুসলিম)
৪. জাদু ও বদনজর থেকে রক্ষা
রাসূল (সা.) বলেছেন যে, সূরা ফালাক ও সূরা নাস নিয়মিত পাঠ করলে জাদু, শয়তানি প্রভাব ও বদনজরের ক্ষতি থেকে নিরাপদ থাকা যায়। এটি এক প্রকার রুকইয়াহ (আধ্যাত্মিক চিকিৎসা) হিসেবেও ব্যবহৃত হয়।
৫. রাতে ঘুমানোর আগে পড়ার গুরুত্ব
একটি হাদিসে পাওয়া যায়, নবী (সা.) প্রতি রাতে ঘুমানোর আগে সূরা ফালাক, সূরা নাস এবং সূরা ইখলাস পড়ে নিজ দেহে ফুঁ দিতেন এবং এটি আত্মরক্ষার অন্যতম উত্তম আমল বলে গণ্য করা হয়। (সহিহ বুখারি)
উপসংহার
সূরা ফালাক হলো জাদু, বদনজর, শয়তানি কুমন্ত্রণা ও সকল প্রকার বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার জন্য অন্যতম শ্রেষ্ঠ দোয়া। এটি নিয়মিত পাঠ করলে দুনিয়া ও আখিরাতে কল্যাণ লাভ করা সম্ভব। এজন্য প্রতিদিন সকালে, রাতে এবং যেকোনো বিপদের আশঙ্কায় সূরাটি পড়ার অভ্যাস করা উচিত।

